মহিলাদের মধ্যে পাইলসের কারণ ও ঝুঁকির বিষয়গুলো কী কী?
মহিলাদের পাইলস (Hemorrhoids) মূলত মলদ্বার ও রেকটামের শিরাগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপের কারণে হয়ে থাকে। জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা ও কিছু স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের কারণে নারীরা এই সমস্যায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হন।
নিচে প্রধান কারণ ও ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
*দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য:
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যায় ও প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটি পাইলসের অন্যতম প্রধান কারণ।
*গর্ভাবস্থা:
গর্ভাবস্থায় বড় হওয়া জরায়ু পেলভিক শিরাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি হরমোনজনিত কারণে রক্তনালীর দেয়াল শিথিল হয়ে পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
*সন্তান প্রসব:
প্রসবের সময় অতিরিক্ত চাপ ও জোর প্রয়োগের ফলে মলদ্বারের শিরায় চাপ পড়ে, যা নতুন করে পাইলস সৃষ্টি করতে পারে বা আগের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।
*দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা:
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বা টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকা মলদ্বারে চাপ বাড়ায়, যা পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
*স্থূলতা:
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমলে পেলভিক ও রেকটাল শিরার উপর চাপ পড়ে।
*খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের অভাব:
ফাইবার কম খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।
*ভারী জিনিস তোলা:
নিয়মিত ভারী কাজ বা জোরে চাপ দেওয়ার মতো কার্যকলাপ মলদ্বারের শিরায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
*দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া:
বারবার পাতলা পায়খানা হলে মলদ্বার অঞ্চলে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হয়, যা পাইলসের কারণ হতে পারে।
*জেনেটিক কারণ:
পারিবারিক ইতিহাস থাকলে শিরার দুর্বলতার কারণে পাইলস হওয়ার প্রবণতা বেশি হতে পারে।
- পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়।
- সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসা নিলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

মন্তব্য করুন