মহিলাদের মধ্যে পাইলসের কারণ ও ঝুঁকির বিষয়গুলো কী কী?

ডা: ইসমাত জাহান লিমা
প্রকাশ :

মহিলাদের পাইলস (Hemorrhoids) মূলত মলদ্বার ও রেকটামের শিরাগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপের কারণে হয়ে থাকে। জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা ও কিছু স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের কারণে নারীরা এই সমস্যায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হন।

নিচে প্রধান কারণ ও ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—


*দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য:

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যায় ও প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটি পাইলসের অন্যতম প্রধান কারণ।


*গর্ভাবস্থা:

গর্ভাবস্থায় বড় হওয়া জরায়ু পেলভিক শিরাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি হরমোনজনিত কারণে রক্তনালীর দেয়াল শিথিল হয়ে পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।


 *সন্তান প্রসব:

প্রসবের সময় অতিরিক্ত চাপ ও জোর প্রয়োগের ফলে মলদ্বারের শিরায় চাপ পড়ে, যা নতুন করে পাইলস সৃষ্টি করতে পারে বা আগের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।


*দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা:

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বা টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকা মলদ্বারে চাপ বাড়ায়, যা পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।


*স্থূলতা:

অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমলে পেলভিক ও রেকটাল শিরার উপর চাপ পড়ে।


*খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের অভাব:

ফাইবার কম খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।


*ভারী জিনিস তোলা:

নিয়মিত ভারী কাজ বা জোরে চাপ দেওয়ার মতো কার্যকলাপ মলদ্বারের শিরায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।


*দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া:

বারবার পাতলা পায়খানা হলে মলদ্বার অঞ্চলে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হয়, যা পাইলসের কারণ হতে পারে।


*জেনেটিক কারণ:

পারিবারিক ইতিহাস থাকলে শিরার দুর্বলতার কারণে পাইলস হওয়ার প্রবণতা বেশি হতে পারে।


- পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়।

 - সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসা নিলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।