সাধারণ মানুষের ওপর জামাতের তকমা দিয়ে হামলা-গুলি মেনে নেওয়া হবে না: কর্নেল বাতেন এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ :

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার তালাব ও মিল্লাত ক্যাম্পে একটি মানবিক ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাধারণ নাগরিকদের ওপর রাজনৈতিক কোনো নির্দিষ্ট তকমা দিয়ে হয়রানি বা সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 


সূত্রমতে, মিরপুর-১১-এর বিহারী অধ্যুষিত ক্যাম্পে মৃতদেহ গোসল করানোর জন্য কোনো স্থায়ী ও সম্মানজনক ব্যবস্থা ছিল না। এই দীর্ঘদিনের মানবিক সমস্যা দূর করতে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের আর্থিক সহযোগিতায় একটি 'মাইয়্যেতের গোসলখানা' নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, একটি পক্ষ পানির পাম্প স্থাপনের অজুহাতে এই জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা প্রদান করে। 


গত ২৯ আগস্ট উক্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ সশস্ত্র কিছু ব্যক্তি এলাকায় প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরি করে। এই ঘটনায় প্রায় ২৫-৩০ জন সাধারণ মানুষ আহত হন এবং নির্মাণাধীন গোসলখানার দেয়ালসহ সংলগ্ন দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্নেল বাতেন ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের আরও সতর্ক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ ছিল। সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল বাতেন বলেন, “আমি এই আসনের সকল জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। 


অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো নিরপরাধ নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দিয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর 'জামাত' বা অন্য কোনো রাজনৈতিক লেবেল লাগিয়ে আক্রমণ বা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। 


এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্য প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: * বাংলাদেশী বিহারী পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানের দ্রুত মুক্তি। * নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহার করা। 


* সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত দোষী ও অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। সবশেষে তিনি প্রত্যাশা করেন যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এসময় জামায়াতের পল্লবী মধ্যে থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজনসহ আরও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।