শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ.)—আমার কিছু কথা

ইঞ্জি: মো: মিজানুর রহমান
প্রকাশ :
৩ সেপ্টেম্বর—শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকী।

আজ তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়, একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর সমগ্র জীবন, কর্ম ও অবদানকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মীর কাসেম আলী (রহ.) ছিলেন একজন উদ্যোক্তা ও সংগঠক। ইসলামী ব্যাংকিং, শিল্প-বাণিজ্য, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আমি মনে করি, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু সরকারের উদ্যোগে হয় না; উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান নির্মাতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই জায়গা থেকে মীর কাসেম আলীর কর্মজীবনকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭১ সালের অভিযোগ এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত একটি অধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের অংশ। একই সঙ্গে তাঁর বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায়সংগততা ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে দেশ-বিদেশে যে প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছিল, সেগুলোকেও ইতিহাসের আলোচনায় রাখা প্রয়োজন।

আমি কোনো বিচারিক রায়ের বিকল্প রায় দিতে চাই না। আমি শুধু মনে করি—ইতিহাসের মূল্যায়ন যেন রাজনৈতিক আবেগ বা একপাক্ষিক বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, আদর্শগত বিরোধ থাকবে—এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু একজন মানুষের ভালো-মন্দ, ভুল-সঠিক, অবদান ও বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়েই তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি হয়।

আমার বিশ্বাস, মীর কাসেম আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান যেমন আলোচনায় আসা উচিত, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিচারপ্রক্রিয়াও ইতিহাসের নিরপেক্ষ গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত।

কারণ—

ইতিহাসকে আমরা যেমন দেখতে চাই, ইতিহাস তেমন হয় না; ইতিহাস শেষ পর্যন্ত দলিল, প্রমাণ ও সময়ের নিরপেক্ষ মূল্যায়নেই তার জায়গা করে নেয়।

আজকের এই দিনে শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ.)-কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁর কর্মজীবনের ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং তাঁর জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো থেকে ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ—দুটিই আমাদের দায়িত্ব।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শাহাদাত কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

আমিন।