হিমালয়ে ভয়াবহ বন্যা: নেপাল- তিব্বতে প্রাণহানি ১২০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪০০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ :

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৫৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। 


গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও পাথরের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়লে লেন্দে খোলা নদীতে বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল জলরাশি পাথরসহ প্রচণ্ড বেগে ভোতে কোশি বা ত্রিশূলী নদীতে নেমে আসে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই বন্যায় নেপালের তিনটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতে অসংখ্য মানুষ, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি এবং সরকারি অবকাঠামো ভেসে গেছে; সেই সাথে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 


নেপালের সরকারি তথ্যমতে, দেশটিতে বন্যায় অন্তত ১ হাজার ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে যে তিব্বত অংশে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 


বর্তমানে পাহাড়ি নদী, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ধসে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুর্যোগের খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল'-এর তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।